সিসি নিউজ ।। ঈদের ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার কর্মস্থলে ফিরছিল নীলফামারীর ডিমলার ৫০জন গার্মেন্টস শ্রমিক। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে খাবারের কথা বলে সড়কে যাত্রী রেখে লাপাত্তা ‘উজান ভাটি’ নামের কোচের চালকসহ কর্মচারীরা। মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের দেখা না মিললে যাত্রীরা ৯৯৯ কল করে পুলিশের সাহায্যে নেয়। পরে পুলিশ এসে যাত্রীদের হেফাজতে নিয়ে কোচটি জব্দ করে।
পুলিশ ও যাত্রীদের দেয়া তথ্য মতে, আরএস পরিবহনের ডিমলা কাউন্টার থেকে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় টিকিট সংগ্রহ করে এসব ঢাকাগামী যাত্রী। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই কাউন্টারের লোকজন ঢাকাগামী ‘উজান ভাটি’ নামের একটি কোচে তুলে দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কোচটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে পৌছায়। সেখানে খাবারের কথা বলে বাস থেকে নেমে সটকে পড়েন বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। এদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কোনও সাড়া না পাওয়ায় বাসযাত্রীরা অস্থির হয়ে উঠেন। এভাবে কেটে যায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকা পৌছাতে না পাড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেক যাত্রী। তারা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা নেয়। খবর পেয়ে মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মিরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। হেফাজতে নেয় নারী-শিশুসহ ৫০ যাত্রীকে।
কোচের যাত্রী গার্মেনটস কর্মী আব্দুল মোমিন জানান, ১৫শত টাকায় ডিমলা থেকে ঢাকার মহাখালী আরএস পরিবহনের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যায় আরএস পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে পৌছালে কাউন্টার ম্যানেজার জোরপূর্বক অন্য বাসে উঠিয়ে দেয়। ডিমলা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দুরে কালিগঞ্জ বাজারে কোচের চালকস অন্যান্য কর্মচারীরা ভাত খাওয়ার কথা বলে পালিয়ে গেছে। অভিযোগ জানাতে কাউন্টার ম্যানেজারকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি উল্টো রাগ দেখিয়ে বাসের চাকা খুলে বিক্রি করে দিতে বলেন।
আনোয়ার হোসেন নামের একজন যাত্রী বলেন, ৯শত টাকার টিকিট ১৮শত টাকা দিয়ে এই বাসে ডিমলা থেকে ঢাকার টিকিট নিয়েছি। কিন্তু এটা রুটপারমিট বিহীন বাস। আমরা প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছি। কাউন্টার ম্যানেজারকে ফোন দিলে ফোন ধরেনা। আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করি। সময়মতো না পৌছালে ক্ষতি হয়ে যাবে।
আরএস পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার বাবু জানান, যানজটের কারণে সময়মতো আরএস পরিবহন ডিমলা না আসায় যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় বাস শ্রমিক রবিউল ইসলাম ‘উজান ভাটি’ নামের একটি পরিবহনে আমাদের সব যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রীদের টিকিটের টাকা রবিউল ইসলামকে বুঝিয়ে দেই। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি যাত্রীসহ গাড়ি রেখে চালক-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে। এই প্রতারণার জন্য রবিউল ইসলাম দায়ী।
কথা হয় রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ঈদে যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ থাকায় আমি রংপুর থেকে উজান ভাটি নামের বাসটি ভাড়া নেই। কিন্তু গাড়ীর চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার রাস্তায় গাড়ি রেখে সমস্ত টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।
ডিমলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাবলু খান লোহানী জানান, শনিবার রাতে ডিমলা-বগুড়া রুটের মাওয়া নামের দূরপাল্লার একটি বাসে করে ভুক্তভোগী যাত্রীদের নিরাপদে ঢাকা পৌছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আটকেপড়া যাত্রীরা ঢাকায় পৌছেছে বলে জানান তিনি। তবে এই প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জলঢাকার মিরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুর রহিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চালক ও সুপারভাইজারকে পাওয়া যায়নি। উজান ভাটি নামের বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।